Trending

পদার্থ ও শক্তির বৈশিষ্ট্য এবং প্রকারভেদ




 এই মহাবিশ্বে বা পৃথিবীতে যা কিছু আছে বা যা কিছু আছে বলে মনে হয় তাকে বিজ্ঞানীরা দুটি ভাগে ভাগ করেছেনঃ
 ১/পদার্থ 
২/শক্তি
 

পদার্থ :

পদার্থ হতে গেলে কোন বস্তুর অবশ্যই  ভর থাকতে হবে। পদার্থের যখনই আমরা অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই অর্থাৎ  কোন গতিশীল বস্তুকেে স্থির করতে চাই বা কোনো  স্থিতিশীল বস্তুকেে গতিশীল করতে চাই  তখন পদার্থের একটা ন্যূনতম বাধা প্রদান করার ক্ষমতা থাকবে।

 যেমন বই-খাতা-কলম ঘরবাড়ি ইট-পাথর পদার্থ কারণ এদের প্রত্যেকের ভর আছে। 
বল প্রয়োগে বাধা প্রদান করে  ও স্থান দখল করে অবস্থান করে। 

বিশেষ লক্ষণীয় :

বাতাস কি কোন পদার্থ?

 অবশ্যই বাতাস পদার্থ। কারণ বাতাসের ভর আছে। স্থান দখল করে অবস্থান করে এবং বাতাসের স্থিতিশীল অবস্থার বা  গতিশীল অবস্থার যখনই পরিবর্তন করতে চাই তখনই বাতাসের বাধা প্রদান করার ক্ষমতা রয়েছে।

 বিষয়টি উদাহরণের মাধ্যমে পরিষ্কার করি,
 মনে করি দুটি বেলুনের মধ্যে একটি বেলুনের ভেতর যদি বাতাস থাকে এবং অপর বেলুনটিতে যদি বাতাস না থাকে  তাহলে ওই বেলুন দুটিকে যদি আমরা কোন পরিমাপক যন্ত্র পরিমাপ করি  তাহলে দেখা যাবে, যে বেলুন এর ভিতর বাতাস আছে সেই বেলুনের ভর বেশি এবং যে বেলুন এর ভিতর বাতাস নেই সেই  বেলুনের ভর কম।
 অর্থাৎ এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে বাতাসের ভর আছে। 

আবার বাতাস স্থান দখল করে অবস্থান করে আমরা যদি কোন পাত্রের মধ্যে বাতাসের দেই তাহলে তা সম্পূর্ণ পাত্রে অবস্থান করে থাকে। 
সুতরাং বাতাস স্থান দখল করে অবস্থান করে।
 
এবং আমরা যখন বাই সাইকেল চালাই তখন যদি বাতাসের বিপরীত দিকে বা অভিমুখে আমরা বাই সাইকেল চালাই তাহলে বাতাস কিন্তু আমাদের একটা ন্যূনতম বাধা প্রদান করে। 
সুতরাং এখান থেকে আমরা বলতে পারি যে বাতাস বল প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে। 
তাই উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে বাতাস একটি পদার্থ । 

শক্তি :

কাজ করার সামর্থ্য যে জিনিসটা যোগায় তাই হচ্ছে শক্তি।অর্থাৎ কাজ করার সামর্থ্য হলো শক্তি । 

 শক্তির প্রকারভেদ:


শক্তি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে
যেমন: তাপশক্তি, আলোক শক্তি, শব্দ শক্তি, চুম্বক শক্তি, বিদ্যুৎ শক্তি, যান্ত্রিক শক্তি ইত্যাদি

এখানে তাপশক্তি, আলোক শক্তি, শব্দ শক্তি, বিদ্যুৎ শক্তি, যান্ত্রিক শক্তি কোন প্রকার পদার্থ নয়
কারণ এই শক্তি স্থান দখল করে অবস্থান করে না এবং শক্তির স্থিতিশীল অবস্থা বা গতিশীল অবস্থার আমরা যখনই পরিবর্তন করতে চাই তারা বাধা প্রদান করার ক্ষমতা রাখে না
যার কারণে আমরা তাপশক্তি, আলোক শক্তি, শব্দ শক্তি, চুম্বক শক্তি, বিদ্যুৎ শক্তি, যান্ত্রিক শক্তি কে পদার্থ বলতে পারিনা 

গঠন অনুসারে পদার্থের প্রকারভে:

 গঠন অনুসারে পদার্থ দুই প্রকার
 একটি হল মৌলিক পদার্থ এবং অপরটি হল যৌগিক পদার্থ

 মৌলিক পদার্থ:

যে সকল পদার্থ ভাংলে ওই পদার্থ ব্যতীত অন্য কোন পদার্থ পাওয়া যায় না সেইসব পদার্থকে মৌলিক পদার্থ বলে  যেমন সোনা, লোহা, রুপা ইত্যাদি  এসব পদার্থ ভাংলে অন্য কোন পদার্থ পাওয়া যায় না

 যৌগিক পদার্থ:

যে সকল পদার্থকে ভাংলে ওই পদার্থ ব্যতীত অন্য পদার্থ পাওয়া যায় 
অর্থাৎ একের অধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায় সেইসব পদার্থকে  যৌগিক পদার্থ বলে।

যেমন পানি  একটি যৌগিক পদার্থ পানিতে দুইটি 
 হাইড্রোজেন পরমাণু  একটি অক্সিজেন পরমাণু থাকে 
 অর্থাৎ আমরা যদি পানিকে ভাঙ্গি তাহলে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাব । এই হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন হলো মৌলিক পদার্থ ।
 সুতরাং দুটি মৌলিক পদার্থ নিয়ে পানি গঠিত তাই 
 পানি যৌগিক পদার্থ ।




Post a Comment

Previous Post Next Post

যোগাযোগ ফর্ম